রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১০

এমপির বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় মামলা, আটক-১০

কুষ্টিয়া-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ’র বাড়ীতে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। সে এই হামলায় নিহত যুবলীগ কর্মি সিদ্দিকুর রহমানের চাচাতো ভাই। তার নাম আহাদুল ইসলাম (৪০), বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে। এই বোমা হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে দু’টি। যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন জাহিদসহ ১০জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতপুরে এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ’র বাড়িতে আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায় দূর্বত্তরা। বিস্ফোরিত বোমায় সাংসদ আফাজ উদ্দিন আহমেদ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও নিহত হয়েছে হামলাকারিসহ মোট ৩ জন। নিহতরা হচ্ছেন তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমত আলী (৪৫), স্থানীয় যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান (৪০) ও তার চাচাতো ভাই হামলাকারি আহাদুল ইসলাম (৪০)। আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
ঘটনার সময় বাড়ির ড্রইং রুমে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন আফাজ উদ্দিন আহমেদ। সেখানে ৩ জন অপরিচিত ব্যক্তিও বসা ছিল। ব্যক্তিগত কাজে পাশের রুমে গিয়ে এমপি আফাজ উদ্দিন আবার ড্রয়িংরুমে ফিরে আসার সময়ই হঠাৎ করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এমপির পাশে বসা তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমত আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত হয় সোফার ওপর বসা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আহাদুল ইসলাম (পরে পরিচয় পাওয়া যায়), তার নিকট থেকেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওবায়দুল হক ওরফে হামজু। আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান সিদ্দিকুর রহমান। এ ঘটনায় সাংসদ আফাজ উদ্দিনসহ বোমার স্প্রিন্টারে আহত হন অন্ততঃপক্ষে ৩জন।
এই হামলার প্রতিবাদে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ অংগ ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০১০

কুষ্টিয়ায় ৭৩ বিডিআরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

১০ নভেম্বর সকাল থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিডিআর সেক্টরে বিদ্রোহী জওয়ানদের বিচার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই তিন দফায় মোট ৭৩ জন জোয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া ৩২ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ৪০ জন, চুয়াডাঙ্গা ৩৫ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ১৮ জন এবং কুষ্টিয়া সেকটরের ১৫ জন রয়েছে। সেকটরের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ আদালত ১৭। অভিযোগ উত্থাপন করেন, সুবেদার জামাত আলী ও নায়েক সুবেদার আমজাদ হোসেন মন্ডল অভিযোগ উপস্থাপন করেন। আদালত কুষ্টিয়া সেকটরের মেজর সৈয়দ ফজলে হোসেন, লে. কর্ণেল আইনুন জামাল ও মেজর আহসান হাবিবকে মামলার প্রসিকিউটর নিয়োগ করেন। বিচারককে সহযোগীতা করেন ডেপুটি এ্যাটর্নী জেনারেল মোঃ সেলিম, লে. কর্ণেল সালাউদ্দিন ও মেজর আশফাক। শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কর্ণেল নজরুল ইসলাম সরকার ১১ নভেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত আদালত মূলতবি ঘোষনা করেন। 

মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০১০

ভেড়ামারায় অপরিচিত লাশ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অপরিচিত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বয়স ২০ বছরের কাছাকাছি। ৯ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে রামকৃষ্ণপুর ব্রীজের নিকট আঁখক্ষেতে   তার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, লাশে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। গলায় আখের পাতা পেচানো ছিল।

রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১০

মিরপুরে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নিহতের নাম আনারুল ইসলাম(৩৫)। ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ মাঠে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। স্থানীয় সূত্র জানায় আগেরদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনারুল মোবাইল ফোনে ডাক পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পরিবারের লোকজন রাতভর খোজাখুজি করেও তার সন্ধান পায়নি। আনারুল নছিমন (স্থানীয়ভাবে তৈরি ডিজেলচালিত যানবাহন) চালক। সে কাকিলাদহ গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১০

কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ: অনেক আহত

সদর উপজেলার বড়িয়া-টাকিমারা গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অনেকেই আহত হয়েছে। এদের মধ্যে উকিল(৪০), আব্দুল গফুর(২২), রবিউল(১৭), রাশিদুল ইসলাম(৪০), নূরুল ইসলাম(৩৫), ঝুমুর আলী(৩৬), সোহেল(২৩), জাহিদুল(৩০) ও মিলন(২৬) কে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যান্য আহতরাও অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে। ৩১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় জগতি ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান শাহীন সালাউদ্দিন ও প্রামানিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০১০

সাধু সঙ্গ সাঙ্গ

সাধু সঙ্গ সাঙ্গ হলো, ভাঙ্গল ভাবের হাট। সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টাকে খুঁজে পেতে আবার আসবেন ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমায়। এ বাসনা নিয়ে বাউল সাধকরা ছেড়ে যাচ্ছেন আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া। 
আখড়াবাড়িতে বসেছিল ৫ দিনের লালন স্মরোনৎসব। ভবের হাটে ঘটে গুরু শিষ্যের মিলন মেলা, ছিল অপার ভালবাসা। শেষ দিন ২০ অক্টোবর ২০১০। শুরু ১৬ অক্টোবর। এ ক’দিনে লালনের আধ্যাত্মিক সুর-মুর্চ্ছনায় মুখর ছিল বাউল আঙ্গিনা। সাঁইজির দর্শন, জাতহীন মানব দর্শন প্রাপ্তির আনন্দ নিয়ে বিদায় নেন বাউল সাধকরা। এসেছিলেন সত্য সুপথের ডাকে সাঁইজির ধামে। তাদের প্রত্যাশা গানের সুরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে লালনের বানী। হিংসা হানাহানি ভূলে একীভূত হবে সমস্ত মানবজাতি। 

বুধবার, ১২ মে, ২০১০

এবার কিলার জীবন নিহত

(দর্শক কল্পনা করুন একই ধরনের ছবি হবে)
আরেকটি লাশ। এটি মিলন ফকির ওরফে জীবন (২৪)এর। পুলিশ বলছে সে গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ কিলার। কুষ্টিয়া পুলিশের দাবি চরমপন্থিদের সাথে বন্দুকযুদ্ধের সময় সে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধারের দাবি পুলিশের। পুলিশ জানিয়েছে, রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ কিলার মিলন ৮/১০ জন সঙ্গী নিয়ে উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের আমানুল্লাহর বাঁশবাগানে নাশকতা সৃষ্টির ল্েয সশস্ত্র অবস্থায় গোপন বৈঠক করছিল। এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় জীবন ও তার দলবল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি বর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ১৫ মিনিটের বন্দুকযুদ্ধে জীবন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পালিয়ে যায় সহযোগী সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জীবনের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, বন্দুকের ৬ রাউণ্ড গুলি, দু’টি ককটেল উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে জীবনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন থানায় ৪টি হত্যা, ১টি চাঁদাবাজি ও ১টি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। সে স্বস্তিপুর গ্্রামের দরবেশ ফকিরের ছেলে।

বুধবার, ৫ মে, ২০১০

এবার আব্দুল আলিম নিহত

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিহত হয়েছে আব্দুল আলিম (৩৫)। পুলিশ বলেছে মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার কলাবাড়িয়া এলাকায় তাদের সাথে চরমপন্থীদের বন্দুকযুদ্ধের সময় সে নিহত হয়। নিহত আলিম জাসদ গণবাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বোমা উদ্ধারের দাবিও করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে জাসদ গণবাহিনীর নেতা আলিম সশস্ত্র অবস্থায় তার দলবল নিয়ে মিরপুর উপজেলার কলাবাড়িয়া জিকে ক্যানেল সংলগ্ন আবু বক্করের কলাবাগানে গোপন বৈঠক করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা ও মিরপুর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। আলিম ও তার দলবল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘন্টা বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আলিম। পালিয়ে যায় তার সহযোগি অন্য সন্ত্রাসীরা। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ৫রাউন্ড গুলি, ৪টি ককটেল ও ছোরা উদ্ধার করে। আলিমের বিরুদ্ধে ৩টি হত্যাসহ ৭টি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়। সে মিরপুর উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের নূরুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১০

দৌলতপুরে জবাই করা লাশ


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাঠ থেকে আজ সকালে এক যুবকের জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বিকেলে হোগলবাড়িয়ার ফারাকপুর গ্রামের বজলা ফকিরের ছেলে সেলিম (২৫) বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে যায়নি। আজ সকালে পাশ্ববর্তি পল্লী বিদ্যুত ষ্টেশনের পাশের মরগাটি মাঠে তার জবাই করা লাশ পাওয়া যায়।

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১০

শীর্ষ চরমপন্থী শাহিন ভারতে গ্রেফতার...!


কুষ্টিয়া পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গণমুক্তিফৌজের শীর্ষস্থানীয় নেতা শাহীন (৩৮)কে ভারতে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার পুলিশ তাঁকে গত শনিবার গভীর রাতে আটক করে। সেখানকার পুলিশ বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বনগাঁ থানার এসডি শ্যামেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ একটি দল নদীয়া জেলার শান্তিপুরের পাঁচপোতা গ্রামের মিকাইল নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খানও শাহিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ভারতের ওই স্থানে সে সোহেল আহম্মেদ মন্ডল ওরফে দিপু পরিচয়ে গত কয়েক মাস ধরে বসবাস করে আসছিলো। আটক করার আগে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন ও বেশ কয়েকটি সিম জব্দ করা হয়। শাহীন দীর্ঘকাল যাবত তাঁর পরিচয় গোপন করে ‘সোহেল আহমেদ মন্ডল ওরফে দীপু’ নামে সেখানে বাস করে আসছিলেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারতের বনগাঁ থানার পুলিশ সোহেল আহমেদ ওরফে দীপু নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বলে আমরা জেনেছি। তিনি শাহীন বলেই একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।’ শাহিন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের সামরিক শাখা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সোহেল আহমেদ ওরফে দীপুর নামে বনগ্রাম থানায় দুইটি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বাংলাদেশে কুষ্টিয়াঞ্চলের বিভিন্ন থানায় শাহিনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ প্রায় দুই ডজন মামলা ও অর্ধশতাধিক জিডি রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের মোষ্ট ওয়ান্টেড শাহিন কুষ্টিয়ার শহরের কালিশংকরপুরের সুলতান রুমীর পুত্র।
কে এই শাহিন :বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শাহিনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা কৃত্তিনগর গ্রামে। তার পিতা কুষ্টিয়া পশু হাসপাতালে চাকুরী করতেন। এই সুবাদে কুষ্টিয়ার শহরের কালিশংকরপুর জামতলা মোড়ে নিজেরা বাড়ি তৈরী করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে শাহিনের পরিবার। এসএসসি পাশ করার পর শাহিন ভর্তি হয় যশোর পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে। একবছর পর সেখান থেকে বদলী হয়ে আসে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে। পাওয়ার বিভাগের ছাত্র শাহিন ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচন করেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে পারাজিত হন শাহিন। স্থানীয় সামাজিক দ্বন্দ্ব, তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এলাকার সন্ত্রাসীদের নির্মম অত্যাচার শুরু হয়, শাহিনের মায়ের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা, তার বাড়ি ঘর লুটপাটের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ছাত্র থেকে রাতারাতি শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে শাহিন। এলাকায় গড়ে তোলে বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। একদিকে নসু-শাহিন বাহিনী অপরদিকে সিরাজ বাহিনী। এই দুই বাহিনীর কোন্দলে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটতে হতে থাকে কালিশংকপুর এলাকায়। অল্প দিনের মধ্যে অপরাধ জগতের মুকুটহীন সম্রাট বনে যায় শাহিন। ১৯৯৯ সালে কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে তৎকালীন স্বরাষ্টমন্ত্রী নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করে শাহিন। এরই মধ্যে খুন হয় নসু। নসু খুনের প্রতিশোধ নিতে আবারও মরিয়া হয়ে ওঠে শাহিন রুমী। তাত্ত্বিক কমিউনিষ্ট নেতা মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপের হাত ধরে শাহিন যোগ দেয় শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলনে। কিছুদিনের মধ্যে সামরিক শাখার প্রধান বনে যায়। কালিশংকরপুরের আক্তার, আড়–য়াপাড়ার আল হেলাল মদন, হরিশংকরপুরের রফিক, ভাটা পাড়ার হেরোইন সম্রাজ্ঞী আলেয়া, ঠিকাদার নান্নু, ফয়েজ, জামু, হাবিব, সন্ত্রাসী মানু, সুলতান ,কালিশংকরপুরের শফি, জাসদ নেতা জামাই বাবুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ খুন হয়েছে শাহিনের নেতৃত্বাধীন গণমুক্তিফৌজ ক্যাডারদের হাতে। অপরাধের তুলনায় শীর্ষ এই চরমপন্থী নেতা নামে মামলার সংখ্যা অনেক কম বলে পুলিশ জানিয়েছে। জামাত বিএনপি জোট সরকারের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে শাহিনের প্রায় আাড়াইশ ক্যাডার নিহত হয়েছে। ক্রসফায়ার চালু হলে শাহিন অবস্থা বেগতিক দেখে ভারতে পাড়ি জমায়। সেখান থেকেই তিনি নিয়ন্ত্রন করতেন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আন্ডার্রওয়াল্ড। টেন্ডারবাজিকে তিনি একমাত্র অর্থ উপার্জন মাধ্যম হিসেবে গ্রহন করেন। কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ জেলার সকল সরকারী দপ্তরের টেন্ডার গণমুক্তিফৌজের নিয়ন্ত্রনে। সম্প্রতি গণমুক্তিফৌজের প্রধান আমিনুল ইসলাম মুকুল ভারতে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে রয়েছেন। মুকুল গ্রেফতারের পর থেকে শাহিন নদীয়া জেলার ওই গ্রামে বসবাস করতো বলে জানা গেছে। এর আগেও গত বছর শাহিনকে ভারতে পশ্চিমবঙ্গের বনগ্রাম থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। অল্পদিনের মধ্যে তিনি সেখান থেকে জামিনে বেরিয়ে যান।